ওঝার কেরামতিতে বিষধর সাপে কাটা এক ব্যক্তির প্রাণ গেল
দি নিউজ লায়ন ; ওঝার কেরামতিতে বিষধর সাপে কাটা এক ব্যক্তির প্রাণ গেল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওই ব্যক্তির দেহ বাড়িতে ফেলে রেখে নানান ধরনের কেরামতি দেখায় এক ওঝা বলে অভিযোগ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাপে কাটা ওই ব্যক্তিকে বাঁচানো সম্ভব হয় নি। পরে অচৈতন্য ওই ব্যক্তিকে বুলবুলচন্ডী গ্রামীণ হাসপাতলে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তার মৃত্যুর কথা জানিয়ে দেন।
মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে হবিবপুর থানার নিমবাড়ি এলাকায়। যদিও ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছে ওই ওঝা। কিন্তু তার আগে ওই ব্যক্তিকে মৃত্যুর পর নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ওই ওঝাকে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে মৃত ব্যক্তিকে ও পাড়া-প্রতিবেশীদের একাংশ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রাতেই গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে অভিযুক্ত ওই ওঝা। এই ঘটনার পর পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে।
পাশাপাশি ওই ওঝার বিরুদ্ধেও আলাদাভাবে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের পরিবার।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম লয়েশ মার্ডি (১৮)। পেশায় দিনমজুর ওই যুবক মঙ্গলবার রাতে রান্নাঘরে খাবার জল নিতে গিয়েছিল। সেই সময় রান্নাঘরে থাকা বিষধর একটি সাপ তার ডান পায়ে ছোবল মারে। ঘটনাস্থলেই ওই যুবকের চিৎকার শুনে পরিবারের লোকেরা ছুটে আসেন।
এরপর ওই যুবককে বাঁচাতেই ডেকে আনা হয় এক ওঝাঁকে। শুরু হয় মন্ত্রপূত ওষুধের কলাকৌশল। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে ওঝার ঝাড়ফুঁক। কখনো নিম গাছের ডাল , আবার কখনো শুকনো লঙ্কা পুড়িয়ে চলে ওঝার কেরামতি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওই যুবকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একসময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ওই যুবক।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওই যুবককে মালদা মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই চিকিৎসকেরা মৃত্যুর কথা জানিয়ে দেয়। এদিকে এই মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হতেই অভিযুক্ত ওঝার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মৃতের পরিবার সহ পাড়া-প্রতিবেশীরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এলাকা থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত ওই ওঝা বলে অভিযোগ। মৃত যুবকের এক আত্মীয় সুকরা মারডি বলেন, সাপে কামড়ানোর ঘটনার বিষয়টি জানতে পারার পর , এই গ্রামেরই এক ওনাকে বাঁকা হয়ে। কিন্তু ওই যুবককে সুস্থ করে তুলতে পারে নি।
অবশেষে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কাকে বুলবুলচন্ডী গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন ঘণ্টাখানেক আগে নিয়ে আসলেও বাঁচানো সম্ভব হতো। আর এটা শোনার পরই মৃত যুবকের পরিবার থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ওই ওঝাকে মারধর দিতেই এলাকা থেকে সে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনার ব্যাপারে পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে হবিবপুর থানার পুলিশ।

Post a Comment